গোমতী চরে মাটি কাটা বন্ধে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে ৩টি ভেকু ও ড্রামট্রাক জব্দ; আটক-১

গোমতী চরে মাটি কাটা বন্ধে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে ৩টি ভেকু ও ড্রামট্রাক জব্দ; আটক-১

অভিযানের পর অভিযানে ও থামছে না গোমতীতে বালু ও মাটি খেকুদের দৌরাত্ব্য। সপ্তাহে ২/৩ দিন চালানো হয় জেলা প্রশাসনের অভিযান।তারপর ও প্রতিদিনই ক্ষতবিক্ষত করা হচ্ছে গোমতীকে। ইজারার ৬ টি ঘাট ছাড়া ও শতাধিক ঘাটে ড্রেজার আর বেকু দিয়ে কাটা হচ্ছে ফসলী জমি।কুমিল্লার গোমতি নদীর নাব্যতা রক্ষায় ইজারা দেয়া হলেও সেদিকে কারো কোন নজর নেই। গোমতীর নাব্যতা নয় বালু ও মাটি খেকোদের পকেটের নাব্যতা ফেরানোই মূল টার্গেট। গোমতীর মাটি খেকোদের দৌরাত্ম্য কমাতে বৃহস্পতিবার কাপ্তান বাজার পাক্কার মাথায় বিষ্ণুপুর মৌজা এলাকায় জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা কুমিল্লা অফিসের কর্মকর্তারা কড়া নজরদারিতে রাখে । এরপরই রাতে অভিযান চালানো হয় গোমতীর পাড়ে।
গতকাল সকালে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই এর কুমিল্লা অঞ্চলের যুগ্ম পরিচালক জি এম আলীম উদ্দিনের নেতৃত্বে কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রট আবু সাঈদ এবং এস এম মোস্তাফিজুর রহমানের অভিযানে আটক করা হয় অবৈধভাবে মাটি কাটা ৩টি ভেকু, ৩টি ট্রাক, ১টি মোটর সাইকেলসহ কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন ২১নং ওয়ার্ডের নাগরিক ব্রুনাই প্রবাস ফেরত কামরুলকে।
জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার কুমিল্লা অঞ্চলের উপপরিচালক মো: আবু জাফর ইকবাল এর নেতৃত্বে বুধবার সারারাত এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার তদন্ত কর্মকর্তা মো: বিল্লাল হেসেনের নেতৃত্বে কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ টিম এবং কুমিল্লা ফায়ার সার্ভিসের লিডার মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে ফায়ার সার্ভিস কুমিল্লা টিমের সদস্যরা অভিযানে সহযোগিতা করে।
কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আবু সাঈদ বলেন, নদীর নাব্যতা রক্ষায় ইজারা দেয়া হলেও তারা গোমতীর নদী থেকে বালু না তুলে ফসলী উর্বর জমির মাটি কাটছে, এ অভিযোগে এনএসআই এর সহযোগিতায় ৩ টি ভেকু,৩ টি ড্রাম ট্রাক ও একটি মোটর সাইকেল সহ ১ জনকে আটক করা হয়েছে। গোমতী নদীর নাব্যতা রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
গোমতী নদীর দুপাশেই সবুজ শাক সবজি চাষ করেই কুমিল্লার মানুষের সবজির চাহিদা মেটায় কৃষকরা কিন্তু অধৈ মাটি কাটা ও বালু উত্তেলণের ফলে নদীর দুপাশের সবজি চাষ বিলীণ হয়ে গিয়েছে। স্থাণীয়রা এতে ক্ষুব্দ ও আতংকে আছে অবৈধ মাটি কাটা নিয়েই তারা মনে করেন, এভাবে নদীর দুপাশে মাটি কাটতে থাকলে নদীর দুপাশের এলাকা গুলো অচিরেই বিলীণ হয়ে যাবে। অনেক দিন ধরেই অবৈধ মাটি কাটার প্রতিবাদ করে আসছে কৃষক সহ স্থানীয়রা।
এছাড়া জানা যায় যে, যে জায়গাটিতে মাটি কাটা হচ্ছিল এ জায়গাটি এনএসআই এর ট্রেনিং সেন্টারের জন্য বরাদ্দ নেবার চেষ্টা চলছে, এ জায়গাটিতে রাতের আধারে শামীম সিন্ডিকেট ভেকু দিয়ে মাটি কেটে গভীর কূপ তৈরী করে লক্ষ লক্ষ টাকা পকেটে পুুরছিলো।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply




© All rights reserved © 2017 NewsTheme
Design BY NewsTheme